02/15/2026 দাঁড়িপাল্লার ব্যালট ধানের শীষের বান্ডিলে ঢুকিয়ে গণনার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:১৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে ভোট গণনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও জেলা আমির নূর মুহাম্মদ আনোয়ারী। তার দাবি, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যালট ধানের শীষের বান্ডিলে ঢুকিয়ে গণনা করা হয়েছে। বেসরকারি ফলাফলে তিনি ৯২৯ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন বলে জানান।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে নির্বাচন পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ারী বলেন, একটি কেন্দ্রের একটি ব্যালটের বান্ডিল চ্যালেঞ্জ করার পর তার প্রাপ্ত ভোট ৫০টি বেড়ে যায়। এতে গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ধানের শীষের পক্ষে ভোট করা আওয়ামী লীগ নেতা ও টেকনাফের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমের নিজ কেন্দ্র মহেশখালীপাড়া এ অনিয়মের ঘটনাটি ঘটেছিল বলে দাবি তার।
তিনি আরও বলেন, উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের একটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা না করেই ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে সেখান থেকে ফল ঘোষণা করা হয়।
আনোয়ারীর অভিযোগ, একই আসনে ৪ হাজার ৮৯৯টি ভোট বাতিল বা আপত্তিকৃত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা অস্বাভাবিক। নির্বাচনি এজেন্ট ও পর্যবেক্ষকদের তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, অনেক কেন্দ্রে বৈধভাবে সিল দেওয়া ব্যালট বাতিল করা হয়েছে, গণনার সময় এজেন্টদের যথাযথভাবে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি এবং নির্দিষ্ট প্রতীকের ভোট বেশি হারে বাতিল করা হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক ফল ও ফরম-সিতেও গরমিল রয়েছে বলে তার দাবি।
তিনি বলেন, ঘোষিত ফলাফল জনগণের প্রকৃত রায়ের প্রতিফলন নয়। এ অবস্থায় তিনি তিনটি দাবি জানান- বিতর্কিত কেন্দ্রগুলোর ভোট পুনর্গণনা, বাতিল ও আপত্তিকৃত ভোট পুনরায় স্বচ্ছভাবে যাচাই এবং পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, দল শান্তিপূর্ণ ও আইনি উপায়ে বিষয়টি মোকাবিলা করবে।
আনোয়ারীর আরও অভিযোগ, পোস্টাল ভোটের ক্ষেত্রে ৩ হাজার ৮০০ ভোটের কথা বলা হলেও গণনায় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ ভোট। বাতিল ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাবও প্রকাশ করা হয়নি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮৮ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৩১ জন, যা ৬৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। বাতিল ভোট ৪ হাজার ৮৯৯। ১১৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পান ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট।
জামায়াতের নূর মুহাম্মদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। তাদের মধ্যে ব্যবধান ১ হাজার ৫৪৯ ভোট বলে সরকারি ফলাফলে উল্লেখ আছে। ইসলামী আন্দোলনের নুরুল হক পান ৪ হাজার ৩৩৮ ভোট এবং এনডিএমের সাইফুদ্দিন খালেদ পান ৩৭৯ ভোট।
এ বিষয়ে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।