07/23/2026 জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি কল্যাণরাষ্ট্র বিনির্মাণের অন্তরায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জুলাই ২০২৬ ০১:৩২
জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের পর গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকার গড়িমসি করছে। এ ধরনের তালবাহানা টেকসই গণতন্ত্র ও কল্যাণরাষ্ট্র বিনির্মাণের অন্তরায়, যা আবারও স্বৈরাচার প্রত্যাবর্তনের ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
জুলাই বিপ্লব স্মরণে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। এতে ফ্রান্সপ্রবাসী রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা অংশগ্রহণ করেন।
মঙ্গলবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অদূরে একটি রেস্তোরাঁয় ‘জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফ্রাঙ্কো বাংলা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রাঙ্কো বাংলার সভাপতি শহিদুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর ফ্রান্স প্রতিনিধি ও কলামিস্ট তানভীর আহমদ তোহা। এ সময় তিনি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পূর্বাপর ইতিহাস ও বিভিন্ন তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ইউরো বার্তার সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম এবং সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
বক্তব্য দেন নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর, অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান, অ্যাক্টিভিস্ট মনোয়ার পাটওয়ারী, বাংলা টেলিগ্রাম-এর সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক শাহ সুহেল আহমদ, সিনিয়র সাংবাদিক হাবীবুল্লাহ ফাহাদ, অনুক্ত সংবাদ-এর সম্পাদক কামরুল, অ্যাক্টিভিস্ট খালেদ মাহমুদ, বিসিএফের প্রেসিডেন্ট মো. নুর, সিনিয়র সাংবাদিক রাবেয়া আক্তার সুবর্ণা, মহাকাশ গবেষক একরামুল কবির সালমান, সাংবাদিক সরদার হাসান ইলিয়াস তানিম, সাংবাদিক আবুল কালাম মামুন (এনটিভির ফ্রান্স প্রতিনিধি), ইকবাল জাফর (ডিবিসি নিউজ), শাহ সাইফুল ইসলাম, ইয়াসির আরাফাত খোকন, ওয়াদুদ তানভীর (আদাফ), সায়েম জামিল (ফিদা), সাংবাদিক আবু তাহের রাজুসহ আরও অনেকে।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, ‘আরেকটি জুলাই বিপ্লবের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এ রায় বাস্তবায়ন জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতেও নতুন স্বৈরাচার গড়ে ওঠার সুযোগ থেকে যাবে।’
নাগরিক পরিষদ ফ্রান্সের সভাপতি আবুল খায়ের লস্কর বলেন, পলাতক হাসিনা ও তার দোসররা দেশ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। এই লুটেরা চক্র আবার নানা নামে, নানা বেশে ফিরে আসতে চায়। তাদের ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
এক্ষেত্রে তিনি মিডিয়াকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্টদের জুলাই ইস্যুতে এক ছাতার নিচে এসে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পেছনে মিডিয়ার একটি বড় ভূমিকা ছিল। তারা তার শাসনের বৈধতা তৈরি করত।
বিশিষ্ট অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মীর জাহান বলেন, দল-মতনির্বিশেষে সবাইকে জুলাইয়ের চেতনা বা বিপ্লবের স্পিরিট ধারণ করতে হবে। পরাজিত শক্তি এ বিপ্লবকে ব্যাহত করতে নানা ষড়যন্ত্র করবে। তাতে বিচলিত হওয়া যাবে না। ফ্যাসিস্ট শক্তিকে প্রতিহত করতে যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, এত মানুষের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। কোনোভাবেই নতুন করে ফ্যাসিবাদ যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। আর কোনো রক্তের বিনিময়ে যেন স্বৈরাচারকে প্রতিহত করতে না হয়। স্বৈরতন্ত্রকে অঙ্কুরেই দমন করতে হবে। এজন্য দেশে-বিদেশে নাগরিক সমাজ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
ইউরো বার্তার সম্পাদক মুহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৬৯, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আমাদের জাতীয় জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই চেতনা ধারণ করে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো বৈষম্য তৈরি করা যাবে না।
সিনিয়র সাংবাদিক ও এটিএন বাংলার ফ্রান্স প্রতিনিধি রাবেয়া আক্তার সুবর্ণা বলেন, জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও অসামান্য অবদান রয়েছে। তারা দূরে থেকেও দেশপ্রেমের প্রেরণায় ছাত্র-জনতার পাশে ছিলেন।
এ ছাড়া ফ্রান্সের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।