1986

08/07/2026 ডকুমেন্টরিতে আবু সাঈদ ও খালেদা জিয়ার ছবি না থাকা নিয়ে যা বললেন রাষ্ট্রপতি

ডকুমেন্টরিতে আবু সাঈদ ও খালেদা জিয়ার ছবি না থাকা নিয়ে যা বললেন রাষ্ট্রপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

৬ আগস্ট ২০২৬ ১৫:০৭

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্মিত একটি ডকুমেন্টরি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভুল তো মানুষ করেই। নিশ্চয়ই ডকুমেন্টারিতেও অনেক ভুল আছে। তবে প্রথম যে ভুলটি আমি দেখেছি, সেটি হলো— সেখানে আবু সাঈদের ছবিই নেই। অথচ আবু সাঈদ এই বিপ্লবের প্রতিচ্ছবি, প্রতীক। তার ছবি না থাকলে এটি কোনো ডকুমেন্টারি হলো না।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এখানে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও নেই। সুতরাং কিছু ভুল হয়েছে। মন্ত্রী দুই হাত জোড় করে সেই ভুল স্বীকার করেছেন, বারবার ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর একটি জাতীয় অনুষ্ঠানে সবাইকে শান্ত হওয়া উচিত ছিল। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংসদের মতো ওয়াকআউট করা বাঞ্ছনীয় নয়।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমি লক্ষ্য করেছি, সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার অনুসারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অনুসারীরা অনেক সময় নেতার চেয়েও বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাতে চান।

তিনি বলেন, এখানে অনেক বিদেশি অতিথি ছিলেন। আমি ভেবেছিলাম ইংরেজিতে বক্তব্য দেব, যাতে তারা দেখতে পারেন— আমরা ১৬ বছর কীভাবে কাটিয়েছি। কিন্তু বিশৃঙ্খলার কারণে তারা চলে গেছেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় অনুষ্ঠানে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা মোটেও কাম্য নয়। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমরা হাওয়া থেকে উড়ে এসে এখানে বসিনি। এই সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। ভুল হলে অবশ্যই তার দায় নিতে হবে। তবে সবাই মিলে ভুল সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সকালের অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ছিল। প্রধান উপদেষ্টা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে এনে সম্মান জানিয়ে নিজের পাশে বসিয়েছেন এবং মঞ্চে স্থান দিয়েছেন। এটাই তো আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা সবাইকে সম্মান করতে চাই, কাউকে অপমান করতে চাই না। কিন্তু রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য চলাকালে ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে চিৎকার করা কি শোভনীয়? এ ধরনের আচরণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের মর্যাদার সঙ্গে মানানসই নয়। আমরা কবে এ ধরনের শিষ্টাচার শিখব?

জুলাই আন্দোলনে আহতদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আমি আরও বেদনাহত ও অভিভূত হয়েছি। এক মা তার অন্ধ ছেলেকে নিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার ছেলে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজের চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে। আজ তারা যদি আমাদের সামনে এসে যথাযথ মর্যাদা না পান, যদি সামান্য চাওয়া-পাওয়ার জন্যও মন্ত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়, তবে সেটি জাতির জন্য লজ্জার।

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে সরকার থাকবে। আমরা আওয়ামী লীগের মতো হতে চাই না। ভুল করলে জনগণ আমাদের শুধরে দেবেন। কিন্তু জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের সম্মান নিশ্চিত করা এই সরকারের সবচেয়ে পবিত্র দায়িত্ব।

সেদিন হাসিনা-রেহানাকে সামরিক বিমানে উঠিয়ে দিয়ে কেন নেমে পড়েন তারিক সিদ্দিকী?
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো জুলাইয়ে যারা আত্মাহুতি দিয়েছেন, তাদের পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণ করা। যারা আহত হয়েছেন, চোখের দৃষ্টি বা অঙ্গ হারিয়েছেন, তাদের পুনর্বাসন করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্র পুনর্গঠনের সুযোগ এনে দিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবে।

সম্পাদক: আব্দুল্লাহ আল মামুন
যোগাযোগ: বাড়ি # ৫৩, রোড # ৩, জার্নালিস্ট আর/এ, কালশি মিরপুর-১২, ঢাকা - ১২১৬
মোবাইল: +৮৮ ০১৬৭৩ ৩৮৮ ৭১৫
ইমেইল: all.mamun100@gmail.com