খামেনির ছেলেকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২৬ ২২:০৫
মোজতবা খামেনিকে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করেছে ইরান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার এক সপ্তাহ পর এ ঘোষণা এলো। এ হত্যাকাণ্ড পুরো অঞ্চলকে একটি বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে রোববার (৮ মার্চ) ধর্মীয় আলেমরা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত করেছেন।
এখন থেকে তিনি ইরানকে নেতৃত্ব দেবেন।
ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), সশস্ত্র বাহিনী ও গুরুত্বপূর্ণ নেতারা নতুন নেতার প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আক্রমণের পর ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি নতুন সর্বোচ্চ নেতার অধীনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা একটি ‘ধর্মীয় ও জাতীয় কর্তব্য’।
মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হননি। তবে তিনি কয়েক দশক ধরে সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠ মহলে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ও আইআরজিসির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খামেনিকে তার বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রধান দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তার এই নির্বাচন ইঙ্গিত দেয়, ইরানের শাসনব্যবস্থায় কট্টরপন্থি দলগুলো এখনো ক্ষমতা ধরে রেখেছে।
যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালেও স্বল্প মেয়াদে সরকার কোনো চুক্তি বা আলোচনায় যেতে আগ্রহী নয়– এমন বার্তাও এতে স্পষ্ট।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খুরি বলেছেন, খামেনির এই নিয়োগ ধারাবাহিকতার সংকেত দেয়। তবে নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনার জন্য চাপ দেবেন কি না, তা দেখার বিষয়।
তিনি বলেন, যেভাবেই দেখা হোক না কেন, এই নিয়োগ একটি চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ। ইরান মূলত আমেরিকান এবং ইসরায়েলিদের বলছে– তোমরা আমাদের ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চেয়েছিলে? দেখ... এই ব্যক্তিটি তার নিহত বাবার চেয়েও বেশি কট্টর।
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য হেইদারি আলে কাসির জানান, প্রয়াত খামেনির পরামর্শ অনুযায়ী প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। পরামর্শটি ছিল– ইরানের শীর্ষ নেতাকে এমন হতে হবে যাকে ‘শত্রু প্রশংসা করার বদলে ঘৃণা করবে’।
প্রবীণ এই আলেম আরও বলেন, এমনকি খোদ ‘মহা শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) তার নাম উল্লেখ করেছে। তিনি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন যে মোজতবা খামেনি ইরানের নেতা হওয়া তার কাছে ‘অগ্রহণযোগ্য’।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এর আগেই যেকোনো উত্তরসূরিকে সতর্ক করে বলেছিল, আপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করতে আমরা দ্বিধা করব না।
রোববার ট্রাম্প আবারো ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ওপর প্রভাব বিস্তারের কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া যাকে এই পদের জন্য বেছে নেওয়া হোক না কেন, সে ‘বেশিদিন টিকবে না’।
খামেনির ছেলের এই নির্বাচন নিশ্চিতভাবেই ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: