শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিষয়ে ভারতের কাছে কনস্যুলার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২৬ ২২:১৩
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম ওরফে মাসুদ ও তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনের বিষয়ে ভারতের কাছে কনস্যুলার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। গত শনিবার রাতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে।
ভারতের কাছে তাঁদের বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন। আজ সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের কলকাতা মিশন থেকে এরই মধ্যে রোববার ভারতের কাছে কনস্যুলার অ্যাক্সেস চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, দ্রুতই অ্যাক্সেস পাবে। তারপরই মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান আছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের বিচারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তিনি গণসংযোগ করছিলেন। গত বছর ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের কিছুক্ষণ পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। তাঁকে মাথায় গুলি করার পর আততায়ীরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। পরে ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে পুলিশ জানায়, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম গুলি করে ওসমান হাদিকে হত্যা করেন। এতে সহায়তা করেছিলেন আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীর হোসেন। তাঁরা মূলত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন। হত্যার পর তিনজনই পালিয়ে ভারতে চলে যান।
গতকাল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের (এসটিএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফয়সাল করিম (৩৭) ও আলমগীর হোসেনকে (৩৪) গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করেন এবং পালিয়ে যান। তাঁরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় আসেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল সুযোগ পেলে আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া।
গ্রেপ্তার হওয়ার পর এখন তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ শুরু হয়েছে বলে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: