ঢাকা | শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: স্ত্রী-সন্তান-শ্যালক ও তিন শ্যালিকাকে হারালেন নূর আলম

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১৩

স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে নূর আলমের এই ছবি এখন কেবলই স্মৃতি

স্ত্রী বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ। তারপরও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে কক্সবাজার বেড়াতে যান। আমি নিজেও সঙ্গে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার পৌঁছানোর পর অফিশিয়াল কাজের প্রয়োজন হওয়ায় আমি শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসি। আজ শনিবার সকালে গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর খোঁজ নিয়ে দেখি নিহত ছয়জনই আমার পরিবারের সদস্য।’

মোবাইলে প্রথম আলোকে কথাগুলো বলছিলেন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা নূর আলম।

শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১০ জন নিহত হন। তাঁদের ছয়জনই একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা হলেন নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর, শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫) এবং তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা ৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। নিহত আরেকজন হলেন নাফিসতা মীম (২৭)।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে নূর আলমের পরিবার ছাড়া অন্যরা রাজধানীর বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকায় থাকতেন। নিহত বাকি তিনজনের নাম–পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁরা হলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), ইসমাইল হোসেন মাসুদ (৩০) ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা (২৭), মান্নান (৩৪) ও সামিদা (৩২)।

আহত ইসমাইল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন নেছা সম্পর্কে ফারিয়া কবিরের মামা–মামি। তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দক্ষিণ ঠেটালিয়া গ্রামে। হতাহতদের স্বজন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আহাদ এ কথা জানিয়েছেন।

নূর আলমের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বড়কোঠা ইউনিয়নের গাজিরপাড় গ্রামে। কর্মসূত্রে প্রায় আট বছর ধরে তিনি চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত। পেশাগত কারণে সপরিবার চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার একটি বাসায় ভাড়ায় থাকতেন।

নূর আলম বলেন, শ্যালক ও শ্যালিকাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তিনি নিজে এবং স্ত্রী ফারিয়া কবির ও ছেলে ফাইজান নূরকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার বেড়াতে যান। তার আগে বুধবার স্ত্রী-সন্তানসহ চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যান।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

৩ ঘণ্টা আগে
রিসোর্টে আগুনে মারা গেছেন লায়লা জাহান নাবিলা (ডানে) ও ইসরাত জাহান মালিহা (বাঁয়ে)
বেলা সোয়া দুইটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন প্রথম আলোকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধার অভিযান চলছে।

হতাহতদের স্বজন আহাদ বলেন, শনিবার সকালে তাঁদের ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। এ ঘটনায় সবাই শোকে বিহ্বল। একসঙ্গে এতগুলো স্বজনের মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by DATA Envelope
Top