ঢাকা | শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫, ২২ চৈত্র ১৪৩১
সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা

সংবিধানে বড় পরিবর্তনের সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারী ২০২৫ ০৪:৪৪

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা

ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমানোসহ সংবিধানে আমূল পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। একজন ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং সংসদ নেতাও হতে পারবেন না।

 

অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন বুধবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের সংস্কারের সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সুপারিশের সারসংক্ষেপ পরে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

সংবিধানের মূলনীতি ও সংসদের কাঠামোতে পরিবর্তন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাঠামো, মৌলিক অধিকারের পরিসর বাড়ানো, বিচার বিভাগের বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলসহ সংবিধানের নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১১ সেপ্টেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠনের কথা জানান। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ অক্টোবর অধ্যাপক আলী রীয়াজকে প্রধান করে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সদস্যদের মধ্যে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের ও অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হক, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, ব্যারিস্টার এম মঈন আলম ফিরোজী, লেখক ফিরোজ আহমেদ, লেখক ও মানবাধিকারকর্মী মো. মুসতাইন বিল্লাহ এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধি সালেহ উদ্দিন সিফাত। কমিটিতে ৯০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ও অন্য সদস্যরা রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন। এ সময় অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, কমিশন তিন মাস ধরে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তারই সারাংশ উপস্থাপন করেছে। তবে এর পেছনে আছে অন্ততপক্ষে এক লাখ মানুষের মতামত, আছে রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের অবদান, আছে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের মত এবং সেগুলোকে ধারণ করার চেষ্টা। কমিশনের সদস্যরা ছাড়াও আরও ৩২ জন গবেষক এই কাজে যুক্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।

আলী রীয়াজ বলেন, কমিশনের সুপারিশের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছিল কার্যকর গণতন্ত্র, মৌলিক মানবাধিকার সুনিশ্চিকরণ ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


Developed with by DATA Envelope
Top